ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট কিংবা বিরোধী জোট—কেউই সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। ফলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত সংশোধিত জরিপে দেখা যায়, নেতানিয়াহু ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট প্রায় ৫১টি করে আসন পেতে পারে। অথচ ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি প্রায় ২৭টি আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল হতে পারে। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮টি আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিরোধী নেতা আইজেনকট। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ জানিয়েছে, বুথফেরত জরিপই শেষ কথা নয়। চূড়ান্ত ফলাফলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। গাজা যুদ্ধ, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্ন এবারের ভোটে বড় প্রভাব ফেলেছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রাথমিক ফলাফল এবং ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে কোনো জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ দরকষাকষি শুরু হতে পারে।
ফলে ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা নির্ধারণে এখন নজর চূড়ান্ত ফলাফল ও সম্ভাব্য জোট সমীকরণের দিকে।