সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে দেশে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ১১ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ বছর অক্টোবরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ।
রবিবার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। চলতি বছরের অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এক মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ডলার।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চার মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগস্টে এসেছে ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার। অক্টোবরে এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ তিন দিনে দেশে ২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এর আগে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট প্রায় ৩৫৫৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০৩৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় দেশের অর্থনীতির জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।