ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে বলে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সম্ভব হলে এমন পদক্ষেপ নিতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই জানা যাবে।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা। তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত এখন আর শুধু প্রেসিডেন্টের হাতে সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কংগ্রেসেরও।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর ইরানের পুনর্গঠনে ২৫ বছর সময় লাগবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। কিন্তু হয়তো আমাকে তা করতে হবে। খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।’
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, আট মাসের বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে যা কিছু নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল, তার সবই নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তেহরান থেকে পাঠানো একটি পারমাণবিক প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
এদিকে ইরানে আরও হামলার হুমকির সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রায় ৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান আনসারি। তিনি বলেন, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর এই যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের দ্রুত কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বলেন, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়।’
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু প্রেসিডেন্টের হাতে নেই বলে মন্তব্য করেছেন কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো।
তাঁর মতে, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। ফলে এই অর্থের প্রবাহ বন্ধ করে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সুযোগও রয়েছে আইনপ্রণেতাদের।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রো বলেন, ‘অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা আমাদের হাতে। কীভাবে অর্থ ব্যয় হবে, তা আমরা নির্ধারণ করতে পারি। আর যুদ্ধ চালাতে অর্থের প্রয়োজন হয়। এ পর্যন্ত করদাতাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। তাই আমরা এই অর্থের প্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারি।’
ক্রো আরও বলেন, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের অবসান চান। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নে দুই দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐকমত্য রয়েছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েই অতীতে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন ট্রাম্প। কারণ, মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ এমনটাই চায়।
সাক্ষাৎকারে ক্রো স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতেই হবে। আর মার্কিন নাগরিকদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও সেটাই চায়।’
ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুমকির পাশাপাশি কংগ্রেস সদস্যদের এসব বক্তব্যে ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে।