২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে গণপিটুনির ঘটনায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া মব সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন। কারাগারে ১৯ বন্দীর মৃত্যু এবং ২৬১ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) অক্টোবর মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সংগঠনটি। দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে দেশে অন্তত ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ১৮৫ জন আহত হয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১২ জনের মধ্যে বিএনপির ১০ জন এবং আওয়ামী লীগের দুজন রয়েছেন।
এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছয়টি সহিংসতার ঘটনায় একজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে গণপিটুনির ৩৩টি ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মব সহিংসতার ২২টি ঘটনায় একজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে অন্তত ২৮টি ঘটনায় ৪৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন নিহত, ৩১ জন আহত, সাতজন লাঞ্ছিত এবং ছয়জন হুমকির মুখে পড়েছেন।
এ মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১৯ বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন কয়েদি এবং ১৫ জন হাজতি। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। সীমান্তে বিএসএফের হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে ২৬১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮২ জন ধর্ষণের শিকার, যাঁদের ৪২ জনই শিশু-কিশোরী।
এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ৪৭ নারী নিহত এবং ২১ জন আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে ২০১ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শ্রমিক নির্যাতনের ৭১টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব ও সুরক্ষাসামগ্রীর ঘাটতির কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৩৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি হলেও রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক হয়রানি এবং শ্রমিক নির্যাতনের মতো ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে।
তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।