জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার বিষয়টি দল দুটির অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আটক ও রিমান্ডে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারেক রহমান। পোস্টে জামায়াত ও এনসিপিকে নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, সার্বভৌমত্ব এবং জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘জামাত এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছেন যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটা সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁফাচ্ছে জিহবাটা বের করে।’
তিনি আরও লেখেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে আবার যাওয়ার বিষয়ে মজা করে কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে তারেকের মন্তব্য, ‘ওরা জ্বলতে থাকুক।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে আমজনতা দলের এই নেতা জানান, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক সহযোদ্ধাকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। রাজনীতিতে সময় দিতে গিয়ে অনেককে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় চলতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় তিনিও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে খাবার, গাড়িভাড়া ও বাসাভাড়ার খরচ মেটাতেন।
তারেক রহমানের ভাষ্য, তখন তিনি কর্মজীবনে ফিরতে পারছিলেন না, আবার আন্দোলন থেকেও সরে আসতে পারছিলেন না। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেই কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেন। বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে তাঁকে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে ফল ও মধুর ব্যবসা করেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তারেক।
নিজের আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুযোগ সীমিত থাকলেও যখনই সুযোগ পেয়েছেন, মুক্তির লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ২০১৮ সালের আন্দোলন, মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারের জন্য লিফলেট তৈরির কাজ নিজ হাতে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পোস্টে আটক ও গুমের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথম আটক হন তিনি। একই বছরের ১৪ জুলাই ডি জিএফআইয়ের মাধ্যমে গুমের শিকার হন। এরপর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডিবি এবং ২২ জুলাই ডি জিএফআই তাঁকে আটক করে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডে থাকার কথাও জানান।
রাজনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গে তারেক রহমান লেখেন, তাঁকে যারা সহ্য করতে পারছেন না, তাঁদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ রাজনৈতিক নয়, বরং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যাবে না—এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধই ছিল সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে বড় লড়াই।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট ভারতের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। পাশাপাশি জামায়াতের আমির এবং দলটির নেতা গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এই পোস্টের ভিত্তিতে করা সম্ভব নয়।
সরকারের আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি অস্থির হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। বিএনপিতে কারও পদায়নে জামায়াত খুশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে জুলাইয়ের মামলায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা কারাগারে থাকলে তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তারেক। তাঁর প্রস্তাব, জামিনে মুক্ত থাকার পর কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা যাবে। তাঁর মতে, জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর এটিই একমাত্র উপায়।
সবশেষে বাংলাদেশপন্থী দল, জাতীয়তাবাদী দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব। তাঁকে নিজের সঙ্গে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকেও ভালোবাসা জানান তিনি।
সাজু/নিএ