দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে কারা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ইতোমধ্যে এসব নির্দেশনার প্রায় ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম।
তিনি বলেন, নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে। এ ছাড়া দেশের কারাগারগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছেন তিনি।
কারাগারে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং প্রচলিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কারা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের সাত নির্দেশনা
১. লক-আপের পর কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ: বিশেষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লক-আপের পর কারাগারের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নিতে হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি: প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন এবং প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষী নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে।
৩. দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিতিতে কঠোর ব্যবস্থা: নির্ধারিত দায়িত্বের স্থান থেকে অনুমতি ছাড়া কোনো প্রহরী সরে যেতে পারবেন না। এ ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক লিখিত প্রতিবেদন তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪. তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা: নিরাপত্তায় অবহেলা বা দায়িত্বে অনুপস্থিতির ঘটনা আড়াল করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করা কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।
৫. পুনঃপ্রশিক্ষণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: দায়িত্ব পালনে বারবার অবহেলা করা প্রহরীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রয়োজন কিংবা অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের অন্য কারাগারে বদলি এবং বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
৬. প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা: বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়াতেও প্রহরীদের নিজ নিজ নির্ধারিত স্থানে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
৭. নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শন: কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন করতে হবে। এ সময় নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণব্যবস্থা এবং প্রহরীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো সরাসরি যাচাই করার নির্দেশ রয়েছে।
গত আগস্টে জারি করা এসব নির্দেশনায় কারা অধিদপ্তর সতর্ক করে বলেছিল, কারাগারের ভেতরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো, নিরাপত্তার ঘাটতি দূর করা এবং প্রশাসনিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সব কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।