1. admin@amadernarayanganj24.com : admin :
  2. bdsumon007@gmail.com : bdsumon007 :
  3. news@gmail.com : new : new
  4. wvzuktee@formtests.info : pwuwkihyms :
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন

ইসলামে যে ৪ ধরনের উপহার দেওয়া-নেওয়া নিষিদ্ধ

প্রতিবেদকের নাম :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ০ বার পঠিত


ইসলামে উপহার আদান-প্রদানকে পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির একটি সুন্দর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উপহার মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমায়, সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ দূর করতে সহায়তা করে। এ কারণে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে একে অপরকে উপহার দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।

এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরকে উপহার দাও, তাহলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৫৯৪)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) উপহার গ্রহণ করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪১৪)

তবে ইসলামে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু নীতিমালা রয়েছে। কোনো উপহারের আড়ালে ঘুষ, সুদ কিংবা অন্যায় সুবিধা নেওয়া হলে তা আর সাধারণ উপহার থাকে না। একইভাবে সন্তানদের মধ্যে অযৌক্তিক বৈষম্য সৃষ্টি করে উপহার দেওয়াও ইসলামের ন্যায়বিচারের শিক্ষার পরিপন্থি।

ইসলামি শিক্ষা ও হাদিসের আলোকে উপহার আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি হলো—

১. সরকারি দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে উপহার গ্রহণ

সরকারি দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তি দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে কারও কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা বা উপহার গ্রহণ করলে তা ঘুষের পর্যায়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে দায়িত্ব পালনের কারণে পাওয়া উপহার ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা অনৈতিক ও শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ হতে পারে।

এ বিষয়ে আবু হুমায়দ আস-সাঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে জাকাত আদায়ের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, এটি জাকাতের সম্পদ, আর এটি তাঁকে উপহার দেওয়া হয়েছে।

এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তিনি তাঁর বাবা-মায়ের ঘরে বসে থাকলেন না কেন, তাহলে দেখা যেত তাঁকে উপহার দেওয়া হয় কি না! অর্থাৎ, সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত না থাকলে তিনি ওই উপহার পেতেন কি না, সেটিই ছিল মূল প্রশ্ন।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) দায়িত্বের কারণে পাওয়া সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪২৫—প্রদত্ত সূত্র অনুযায়ী)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, সরকারি দায়িত্ব বা পদমর্যাদার সুযোগে পাওয়া উপহারকে সাধারণ সৌজন্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উপহারটি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি।

২. সুপারিশ বা উপকারের বিনিময়ে উপহার গ্রহণ

কোনো ব্যক্তির চাকরি, বৈধ কাজ কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো বিষয়ে সুপারিশ করা ভালো কাজ হতে পারে। তবে সেই সুপারিশের বিনিময়ে উপহার বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা ইসলামে গুরুতর আপত্তিকর।

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য সুপারিশ করল এবং এর বিনিময়ে সে তাকে উপহার দিল, আর সে তা গ্রহণ করল—তাহলে সে সুদের একটি বড় দরজায় প্রবেশ করল। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৪১)

এই হাদিসের শিক্ষা হলো, কারও জন্য সুপারিশ বা উপকার করার বিনিময়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সুপারিশের কারণে অন্যায়ভাবে চাকরি, সুযোগ-সুবিধা কিংবা কোনো বিশেষ সুবিধা আদায় করে দেওয়ার বিনিময়ে উপহার নেওয়া ঘুষ ও অনৈতিক লেনদেনের পর্যায়ে পড়তে পারে।

তবে উপহারের বিধান নির্ধারণে ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।

৩. ঋণ দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ

ইসলামে বিপদগ্রস্ত কাউকে ঋণ দেওয়া একটি মানবিক ও সওয়াবের কাজ। কিন্তু ঋণ দেওয়ার শর্ত হিসেবে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ, উপহার কিংবা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়া সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিসে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে উপহার গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কারও কাছে পাওনা থাকার কারণে সে যদি উপহার হিসেবে সামান্য কিছু দেয়, তবুও তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে—যদি সেই উপহার ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৪২—প্রদত্ত সূত্র অনুযায়ী)

এ ছাড়া সুনান ইবনু মাজাহতে বর্ণিত একটি হাদিসে ঋণদাতার জন্য ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে বিশেষ উপহার বা বাহনে চড়ার সুবিধা গ্রহণ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তবে আগে থেকেই উভয়ের মধ্যে এমন উপহার আদান-প্রদানের স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ২৪৩২)

অর্থাৎ, ঋণের কারণে ঋণদাতা যেন বাড়তি সুবিধা আদায় করতে না পারেন, ইসলাম সে বিষয়ে সতর্ক করেছে। তবে ঋণের সঙ্গে সম্পর্কহীন স্বাভাবিক সৌজন্য বা আগে থেকে প্রচলিত উপহারের বিধান নির্ধারণে পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ছবি: প্রতিকী ছবি

৪. সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করে উপহার দেওয়া

সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি মাধ্যম উপহার। তবে বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার বজায় রাখা। কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া একজন সন্তানকে বেশি বা মূল্যবান উপহার দিয়ে অন্যদের বঞ্চিত করা পারিবারিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

নু‘মান ইবনু বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তাঁর বাবা তাঁকে একটি উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সাক্ষী না রাখা পর্যন্ত এতে সম্মতি দিতে রাজি হননি। পরে তাঁর বাবা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) জানতে চান, তিনি তাঁর সব সন্তানকে একই ধরনের উপহার দিয়েছেন কি না। বাবা যখন জানান যে তিনি তা করেননি, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো।’

এরপর নু‘মান (রা.)-এর বাবা তাঁর দেওয়া উপহার ফিরিয়ে নেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪১৬—প্রদত্ত সূত্র অনুযায়ী)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সন্তানদের উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সন্তানদের বয়স, প্রয়োজন, অসুস্থতা, বিশেষ দায়িত্ব কিংবা আর্থিক পরিস্থিতির মতো বাস্তব কারণ থাকলে উপহারের পার্থক্যের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

ইসলামে উপহার আদান-প্রদান মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির একটি সুন্দর মাধ্যম। তবে উপহারের আড়ালে ঘুষ, সুদ, অন্যায় সুবিধা কিংবা বৈষম্য সৃষ্টি হলে তা ইসলামি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই উপহার দেওয়ার পাশাপাশি তা গ্রহণের উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতিও বিবেচনা করা জরুরি। উপহার যেন কারও দায়িত্বের অপব্যবহার, অন্যায় সুবিধা আদায় কিংবা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করার মাধ্যম না হয়—এ বিষয়ে সচেতন থাকাই ইসলামি শিক্ষার মূল বার্তা।



Source link

Share this news as a Photo Card

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

© All rights reserved © 2026 bangladeshtimes24

Theme Customized BY LatestNews
31 October 2026

‘যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয় ৫০ লাখের জায়গায় এক কোটি হবে’

www.bdtimes24.com |
bdtimes24