পাহাড়, প্রকৃতি ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে ১০ শিল্পীর অংশগ্রহণে আর্টভেনটাসের চার দিনের শিল্পনিবাস ও পাহাড় অন্বেষণ কর্মসূচি।
বাংলাদেশের পাহাড়ি ভূদৃশ্য, প্রকৃতি ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত করতে বান্দরবানে শুরু হয়েছে আন্তঃবিষয়ক শিল্পনিবাস ও পাহাড় অন্বেষণ কর্মসূচি ‘ArtVentas | Season 01: A Collective Land Art Narrative’। আর্টভেনটাসের (ArtVentas) আয়োজনে আজ ৩০ অক্টোবর শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।
এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন ১০ জন শিল্পী—মানির মৃত্তিক, সব্যসাচী মজুমদার, কুন্তল বাড়ৈ, রনি মণ্ডল, ফয়জুল ইসলাম, উহাই মারমা, বনানী সিমলাই, নয়ন কর, শওকত শাওন ও মো. হাসেম। কর্মসূচির কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুন্তল বাড়ৈ এবং প্রধান সমন্বয়ক হাসেম সারওয়ার।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিল্পচর্চার সঙ্গে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, ভূদৃশ্য, পরিবেশ ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সংযোগ তৈরি করা। বান্দরবানের পাহাড়, বন ও জলধারাকে শিল্পীদের সৃজনশীল অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে এর মধ্য দিয়ে সম্মিলিত শিল্পচর্চার নতুন সম্ভাবনা অন্বেষণ করা হবে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে শিল্পীদের ভাবনা ও কাজ পূর্ণতা পাবে।
‘A Collective Land Art Narrative’ ধারণাটিতে ভূমি, প্রকৃতি ও মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে সম্মিলিতভাবে শিল্পের আখ্যান নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এখানে ভূদৃশ্য কেবল শিল্পকর্মের বিষয় নয়; বরং পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল প্রকাশের সক্রিয় ক্ষেত্র। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অনুধাবনের পাশাপাশি পরিবেশসচেতনতা ও দায়িত্বশীল পর্যটনের ধারণাও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
আয়োজকদের লক্ষ্য শিল্প, ভ্রমণ, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন একটি পরিসর তৈরি করা, যেখানে শিল্পীরা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল শিল্পচর্চায় কীভাবে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, সে সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা হবে।

চার দিনের এ কর্মসূচির ডকুমেন্টেশন পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে গ্যালারি হালখাতা। এ আয়োজনটির কিউরেটর শিল্পী কুন্তল বাড়ৈ ও প্রধান সমন্বয়ক শিল্পী হাসেম সারওয়ার।
আর্টভেনটাসের এ কার্যক্রম বাংলাদেশের চারুশিল্প অঙ্গনে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করবে। যার মাধ্যমে বাংলার শিল্প উপস্থাপনের নতুনদিক উম্মোচন হবে। শিল্পের এমন আয়োজন সারা বাংলা জুড়ে প্রসারিত করতে পারলে সমাজ, প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে এক নিবিড় সর্ম্পক তৈরি করবে।