২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটি তৎকালীন বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি ধারণ করেছিলেন—এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়লেও, সেই দাবি নাকচ করেছেন আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
সংশ্লিষ্ট বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের আলোচিত ভিডিওটি তাহসিফ ধারণ করেননি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান জুলকারনাইন সায়ের।
পোস্টে তিনি লেখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি প্রচারিত হলেও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিওটি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি ধারণ করেননি।
তাহসিফের বিমানবাহিনীর চাকরি হারানোর প্রসঙ্গ তুলে সায়ের জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে সশস্ত্র বাহিনীর নীতিমালার পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে বিমানবাহিনীর একাধিক জুনিয়র কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে তাহসিফও ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে পৃথক আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে সায়ের বলেন, কাছাকাছি সময়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। ওই কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এরই মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণের সঙ্গে তাহসিফের চাকরি হারানোর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়েও আগে থেকে আলোচনা চলছিল। গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, ভিডিও ধারণের কারণে বিমানবাহিনীর চাকরি হারিয়েছিলেন কি না—জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘হতে পারে।’
একই পডকাস্টে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে তদন্তের সময় বিমানবাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় এবং এ ঘটনায় তাহসিফের নামও উঠে আসে।
তবে ওই দাবি সম্পর্কে তাহসিফ বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, “আমার দেশ” যে প্রতিবেদনটি করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।’
আইএসপিআরের বক্তব্য
‘আমার দেশ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৪ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রতিবাদ জানায়। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রতিবেদনে তাহসিফসহ বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে আইএসপিআর জানায়, ওই দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানায় সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। সেদিন তাঁর দেশত্যাগের বিভিন্ন দৃশ্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এর মধ্যে কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ওঠার একটি ভিডিও পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি কে ধারণ করেছিলেন, তা নিয়ে তখন থেকেই নানা আলোচনা চলছিল।
বাপ্পি/সা.এ