নদীর বুকে বৈঠার ছন্দ, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে নড়াইলের কাজলা নদী। নারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জাতীয় নারী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। ১৬টি নৌকা নিয়ে বৈঠার লড়াইয়ে নামেন নারী মাঝি-মাল্লারা।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের এগারোখান এলাকার গুয়াখোলা-মান্দিয়া অংশে কাজলা নদীতে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা এবং গ্রামীণ পর্যটনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য বিষয়ক) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুই, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলি ও মাহমুদা হাবিবা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, পরিচালক মো. গনী উল আজম, নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস এবং অলোকাপুরী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি বনানী বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রতিযোগিতায় সদর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের মুক্তা অধিকারীর নৌকা প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় হয় হাতিয়ারার ববিতা সরকারের নৌকা। রীনা বিশ্বাসের নৌকা তৃতীয় এবং মালিয়াটের চম্পা গোস্বামীর নৌকা চতুর্থ স্থান লাভ করে। প্রতিযোগিতা শেষে সন্ধ্যায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
নারীদের অংশগ্রহণে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে কাজলা নদীর দুই পাড়ে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। নড়াইল ছাড়াও যশোর ও খুলনাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ নৌকা বাইচ দেখতে আসেন। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে করতালি ও উল্লাসে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন দর্শনার্থীরা। নারী মাঝিদের বৈঠার তালে তালে নদীর বুকে এগিয়ে চলা নৌকাগুলো দর্শকদের মধ্যে তৈরি করে বাড়তি উন্মাদনা।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোগাছি গ্রামের বাসিন্দা বন্দনা বিশ্বাস বলেন, ‘নারী মাঝি-মাল্লাদের অংশগ্রহণে নৌকা বাইচ দেখতে খুবই ভালো লেগেছে। অনেক আনন্দ পেয়েছি। তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। এ আয়োজনের মাধ্যমে নড়াইলের লোকজ ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে।’
নারীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কাজলা নদীর বুকে তৈরি হয় প্রাণবন্ত উৎসবের আবহ। ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ নৌকা বাইচে নারীদের অংশগ্রহণ একদিকে যেমন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে, অন্যদিকে তেমনি নারীর ক্ষমতায়ন, লোকজ সংস্কৃতির চর্চা ও গ্রামীণ পর্যটন বিকাশে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।#